কুমিল্লা-২ আসন ভাঙনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিএনপির হুঁশিয়ারি: “হোমনা-মেঘনা বহাল রাখতে হবে”
বিশেষ প্রতিনিধি: মো. রোমন হায়দার
কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে হোমনা-তিতাস ও দাউদকান্দি-মেঘনা নামে দুটি নতুন আসন গঠনের প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে হোমনা উপজেলা ও পৌর বিএনপি। শনিবার (২ আগস্ট) সকালে হোমনা উপজেলা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা নির্বাচন কমিশনের খসড়া প্রস্তাবকে “বাস্তবতা ও জনগণের মতামতের পরিপন্থী” বলে আখ্যায়িত করেন এবং হোমনা-মেঘনা নিয়ে গঠিত পূর্ববর্তী কুমিল্লা-২ আসন বহাল রাখার আহ্বান জানান।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), পৌর বিএনপির সভাপতি সানাউল্লাহ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৫৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত হোমনা ও মেঘনা (তৎকালীন হোমনার অংশ) মিলেই ছিল কুমিল্লা-২ আসনের গঠন। ১৯৯৮ সালে মেঘনাকে পৃথক উপজেলা হিসেবে গঠন করা হলেও, ২০০৮ সালের নির্বাচনে কমিশন হঠাৎ করে মেঘনাকে দাউদকান্দির সাথে ও তিতাসকে হোমনার সাথে যুক্ত করে আসন পুনর্বিন্যাস করে। অথচ দাউদকান্দি-মেঘনার মধ্যে কোনো সরাসরি ভৌগোলিক সংযোগ নেই, বরং বিশাল নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। অপরদিকে হোমনা ও মেঘনার মধ্যে রয়েছে দৃঢ় যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সেবা ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক।
তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের ১ জুন গেজেটে পূর্বের বাস্তবতা অনুযায়ী কুমিল্লা-২ আসন হোমনা-মেঘনা নিয়ে পুনঃস্থাপন করে এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সে অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়। অথচ এবার আবার আসন বিভাজনের মাধ্যমে মেঘনাকে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত করার যে প্রস্তাব উঠেছে, তা স্থানীয় রাজনীতি, উন্নয়ন এবং জনগণের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই প্রস্তাব জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইন ২০২১-এর ধারা ৬(২)-এর পরিপন্থী, যা প্রশাসনিক সুবিধা, আঞ্চলিক সংহতি ও জনসংখ্যা ভিত্তিক উন্নয়নের মূলনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে।
বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভৌগোলিক বাস্তবতা, প্রশাসনিক কাঠামো ও জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে হোমনা-মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন আগের মতোই বহাল রাখতে হবে।”
তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, “জনস্বার্থবিরোধী কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।”