একজন আদর্শ বাবা কি শুধু শরীরের শক্তিতে, নাকি ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে?

বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি: DNB NEWS
লুতুপুতু বডিবিল্ডার বাবা—আদর্শবান বাবা! অথচ যেসব নিষ্পাপ মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাদের বাবারা হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেননি বলে কি তাঁরা আদর্শ বাবা নন?
একজন বাবার আদর্শ কি তাঁর পেশিশক্তি দিয়ে বিচার করা হবে, নাকি সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস দিয়ে?
কোনো বাবার পক্ষে নিজের হাতে হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে না পারা তাঁর ব্যর্থতা নয়। বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। প্রশ্ন হলো, সেই নিষ্পাপ সন্তানদের পরিবার কি যথাযথ ন্যায়বিচার পেয়েছে?
আর হ্যাঁ, হত্যাকারীরা কি সবাই হুজুর কিংবা পায়ুযোদ্ধা ছিল? অপরাধীর পরিচয়, পোশাক কিংবা সামাজিক অবস্থান দেখে কি অপরাধের বিচার হবে? নাকি অপরাধের প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই বিচার হওয়া উচিত?
একটি তিলকে তাল বানিয়ে, একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি দেশের জনগণের বড় একটি অংশকে যেভাবে প্রভাবিত করা হলো, তাতে প্রশ্ন জাগে—মানুষ কি আজ নিজের বিবেক দিয়ে বিচার করে, নাকি অন্যের তৈরি করা বয়ানকেই সত্য বলে মেনে নেয়?
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে অন্ধভাবে কারও পক্ষ নেওয়া নয়। আর আদর্শবান বাবা হওয়ার মানদণ্ড পেশির আকার নয়—সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা।
সবার আগে প্রয়োজন সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা এবং পরিচয়নির্বিশেষে অপরাধীর ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা।