ব্রাহ্মণবাড়িয়া (বাঞ্ছারামপুর) প্রতিনিধি মো রোমন হায়দার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (সংসদীয় আসন ২৪৮) বাঞ্ছারামপুর আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি জনগণের উদ্দেশ্যে তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন। এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বাঞ্ছারামপুরকে “অমিত সম্ভাবনাময় অঞ্চল” উল্লেখ করে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তাভিত্তিক একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন দেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাঞ্ছারামপুরবাসীর জন্যও একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “উন্নত ও নিরাপদ বাঞ্ছারামপুর গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
জোনায়েদ সাকি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাঞ্ছারামপুর দেশের অন্যতম প্রধান রেমিট্যান্স-আয়কারী উপজেলা হলেও তুলনামূলকভাবে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ কম। প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও স্থানীয় উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। প্রবাসীদের জন্য হয়রানিমুক্ত সেবা, বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি এবং একটি “প্রবাসী পরামর্শক পরিষদ” গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি মেঘনা সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। তাঁর মতে, একটি সেতুর অভাবে রাজধানীর নিকটবর্তী হয়েও বাঞ্ছারামপুর যোগাযোগে পিছিয়ে আছে। সেতু নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাবে, শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন। শিশুদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাঞ্ছারামপুরে একটি ক্রীড়া একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি খেলার মাঠ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারীদের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলেন। এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল গঠনের কথাও তাঁর অঙ্গীকারের অংশ।
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নদীবিধৌত বাঞ্ছারামপুরের মেঘনা ও তিতাসসহ খাল-বিল রক্ষা করা হবে অন্যতম অগ্রাধিকার। উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কৃষক-শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল ও বয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “এই বাঞ্ছারামপুরে আর একটি ধর্ষণও সহ্য করা হবে না।” সম্প্রীতি ও সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান বজায় রেখে সকল ধর্মের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচিত হলে বাঞ্ছারামপুরে কোনো গডফাদার বা মাফিয়া প্রভাব থাকবে না এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। তিনি মাথাল মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণের সমর্থন কামনা করেন এবং বাঞ্ছারামপুরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আসন্ন নির্বাচনে তাঁর এই অঙ্গীকার কতটা সাড়া ফেলবে, তা এখন দেখার অপেক্ষা। তবে উন্নয়ন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রবাসী অধিকার—এই পাঁচটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি যে রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনা তৈরি করেছে।