বিদ্যালয়ে না এসেও বছরজুড়ে বেতন: বাঞ্ছারামপুরে সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
প্রতিনিধি: মোঃ রোমন হায়দার, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুরাইয়া আক্তার লাভলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখের পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিতভাবে বেতন ও ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, গত এক বছরে তিনি প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়েছেন। অথচ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও ক্লাস না নিয়ে সময় কাটাতেন এবং অনেক সময় ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন।
বিষয়টি জানার পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনসুর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক জানান, তদন্তে শিক্ষার্থীদের করা অধিকাংশ অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতার কারণেই সুরাইয়া আক্তার লাভলী এতদিন অবাধে বেতন ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সবকিছু জানার পরও ব্যবস্থা নেননি, বরং তার পক্ষেই থেকেছেন।
গত ৫ আগস্ট থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে আসছেন। তারা দাবি করেন, লাভলী ম্যাডাম তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতেন, অশালীন মন্তব্য করতেন এবং ক্লাস ঠিকমতো নিতেন না।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষক ছয় মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বেতন বন্ধ হওয়ার কথা। এখানে প্রধান শিক্ষক কেন ব্যবস্থা নেননি, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বেতন তোলা ঠিক হয়নি। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক সুরাইয়া আক্তার লাভলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “তিনি স্কুলে আসেন না ঠিকই, তবে ভালো শিক্ষক। কেন বেতন পান, সেটা উপরমহলে জিজ্ঞাসা করুন।”
অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুরাইয়া আক্তার লাভলীর একটি ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে।