ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে একাধিকবার ধ’র্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কিশোরী অ’ন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এখন পেটের সন্তানের পিতৃপরিচয় চাইতে গিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের সেই কিশোরী ও তার পরিবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মা’মলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআই পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইসলামাবাদ গ্রামের বিনু মিয়ার ছেলে ইয়ামিন (২২) এই কিশোরীকে প্রথমে জো’রপূর্বক পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশেই একটি পরি’ত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধ’র্ষণ করে। কিন্তু এই কিশোরী ভয়ে তার পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি। একপর্যায়ে কিশোরী অ’ন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইয়ামিন বাচ্চা ন’ষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে। গর্ভের বাচ্চা ন’ষ্ট করতে কিশোরী রাজি না হলে একসময় ইয়ামিন সেই দরিদ্র পরিবারের কিশোরীকে আর পাত্তা দেয় না। অসহায় কিশোরী আর উপায় না পেয়ে সমস্ত ঘটনা তার পরিবারকে জানায়।

ভু’ক্তভোগী কিশোরীর দাদী রুপবানু বেগম বলেন, ইয়ামিন আমার নাতনির জীবনটা ন’ষ্ট করে দিয়েছে। আমরা গরিব মানুষ। বিষয়টি আমরা পরে জেনেছি। যখন আমার নাতনির শারিরীক পরিবর্তন হতে শুরু করেছে, তখন সে (কিশোরী) সবকিছু আমাদের খুলে বলে। তার পেটে এখন পাঁচমাসের বাচ্চা।
কিশোরীর অসহায় মা আফরোজা বেগম বলেন, ইয়ামিন বড় গোষ্ঠীর ছেলে এবং তারা গ্রামের প্রভা’বশালী। আর আমরা খুবই গরিব, মাথাগোঁজার তেমন ঠাঁই নাই। বিয়ে ছাড়াই আমার শিশু মেয়ের গর্ভে এখন পাঁচ মাসের বাচ্চা। এ অবস্থায় আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। বিয়ের কথা বলে ইয়ামিন আমার মেয়েটার স’র্বনাশ করেছে। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।

ভুক্তভোগী কিশোরীর দরিদ্র বাবা বিল্লাল মিয়া বলেন, ঘটনার অনেক পরে মেয়ে আমাদেরকে সবকিছু জানিয়েছে। এরইমধ্যে আমার মেয়ের জীবন ন’ষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি জানার পর গ্রামের সর্দার-মাতাব্বদের কাছে এ বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু ছেলেটা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর, তাই সবাই আমাদের সাফ জানিয়ে দেন তাদের কিছুই করার নেই। পরবর্তীতে মা’মলা করেছি, কিন্তু এখানেও টাকার কাছে আমরা হেরে যাচ্ছি। আমার মেয়ের পেটে বিয়ে ছাড়াই বা’চ্চা, কিন্তু আমরা কোনো ন্যায় বিচার পাচ্ছি না।

এদিকে এ ঘটনার বিষয়ে জানতে ইসলামাবাদ গ্রামে অ’ভিযুক্ত ইয়ামিনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ইয়ামিনের স্বজনরা জানান, সে (ইয়ামিন) কুমিল্লায় থেকে সেলুনে কাজ করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধ’র্ষণ ও অ’ন্তঃসত্ত্বার বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়ামিনের পরিবারের লোকজন জানান, আমরা সেই মেয়ের লোকজনকে জানিয়ে দিয়েছি – “বাচ্চা হওয়ার পর ডিএনএ পরী’ক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় এই বাচ্চা ইয়ামিনের, তাহলে আমরা বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চিন্তাভাবনা করবো।”
এ বিষয়ে এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই পুলিশের এসআই মাহবুব হোসেন বলেন, সরাইলের ইসলামাবাদ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে এসেছি। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে, কিন্তু এখনও রিপোর্ট হাতে আসেনি। অধিকতর তদন্তের পর যথাসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।