শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
Headline :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকের টাকার জন্য বাবা-মাকে নির্যাতন করে  এনায়েতুল্লাহ, পরে যুবকের ৪০ দিনের কারাদণ্ড দিলো ভ্রাম্যমাণ আদালত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়ায় সিএনজিতে ২০ কেজি গাঁজা,এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পুলিশ সৌদি আরবে ৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ বাঞ্ছারামপুরের কাইয়ূম মিয়া, সন্ধান চায় পরিবার শত বছরের প্রাচীন আশ্রাফবাদ সিকদার বাড়ি জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ শেষে উদ্বোধন করে এডভোকেট রফিক সিকদার  সৌদিতে লিফট ছিঁড়ে দুই পা ভাঙা বাঞ্ছারামপুর হোসেনপুর শাওনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, থাকছে দৈনিক ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা বাঞ্ছারামপুরে বিজিডিসিএলের মোবাইল কোর্টে ১৫ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, জরিমানা ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সোলার বিদ্যুৎ উপহার দিল বাঞ্ছারামপুর ইসলামী হাসপাতাল ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা: মূল হামলাকারী ইলিয়াস মিয়া, বাড়ি বাঞ্ছারামপুরে বাঞ্ছারামপুরে ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নেই, ব্যাহত নাগরিক সেবা প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে চলছে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

বাঞ্ছারামপুরে ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নেই, ব্যাহত নাগরিক সেবা প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে চলছে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

বাঞ্ছারামপুরে ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নেই, ব্যাহত নাগরিক সেবা
প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে চলছে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সাড়ে তিন লাখ মানুষ

মো:রোমন হায়দার বাঞ্ছারামপুর নিজস্ব প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। প্যানেল চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চললেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে ১১ জন পালিয়ে যান অথবা পদত্যাগ করেন। বর্তমানে শুধু আইয়ুবপুর ও ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বপদে বহাল রয়েছেন। ফলে বাকি ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম প্যানেল চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অনেক সময় প্যানেল চেয়ারম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পাওয়া যায় না। এতে নাগরিক সনদ, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসংক্রান্ত কাজ, ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিসহ প্রয়োজনীয় সেবা পেতে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে পরিষদের কার্যক্রম চালু থাকলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা ও বিরোধ নিষ্পত্তির স্বাভাবিক ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।গ্রাম আদালত নিয়েও অনিশ্চয়তা
চেয়ারম্যান না থাকায় বিশেষ করে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ থাকলেও সব ইউনিয়নে এ কার্যক্রম সমানভাবে সচল নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল আহমেদ বলেন, ‘আগে ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাওয়া যেত। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি কথা বলা যেত। এখন অনেক ক্ষেত্রে কার কাছে গেলে সমস্যার সমাধান হবে, সেটাই বুঝতে পারি না। প্যানেল চেয়ারম্যান বিতর্কিত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন।’
রূপসদী ইউনিয়নের বাসিন্দা গৃহবধূ তানিয়া আক্তার বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে গিয়ে আদালতে মামলা করা গ্রামের মানুষের জন্য সহজ নয়। যাতায়াত, আইনজীবী ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। গ্রাম আদালত ঠিকভাবে কাজ করলে এসব ঝামেলা অনেক কমে। সম্প্রতি আমাকে কয়েকবার জেলায় মামলার কাজে যেতে হয়েছে।’
প্রশাসনের বক্তব্য জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও ইউনিয়ন পরিষদের সেবা ও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-এমরান খান বলেন, ‘চেয়ারম্যান না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিক সেবা এবং গ্রাম আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধি সংকটের মধ্যেও অধিকাংশ ইউনিয়নে আদালতের কার্যক্রম চালু রয়েছে।’স্থানীয়রা বলছেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য নাগরিক সেবাও স্বাভাবিক করতে আরও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page