শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতি, চু/রি, অ/স্ত্র, মা/রা/মা/রি ও বি/স্ফো/র/ক/সহ ১১ মামলার আসামি রুবেল ওরফে দুখুকে  গ্রেফতা করে পুলিশ।  বাঞ্ছারামপুরে হাজী বিরিয়ানির কারখানায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা, ধ্বংস ৫৫০ বোতল কেওড়ার জল বাঞ্ছারামপুরে ব্রিজের ফুটপাত দখলমুক্ত করায় উপজেলা প্রশাসনকে সাধুবাদ, নিয়মিত নজরদারির দাবি এলাকাবাসীর রূপগঞ্জ হাসপাতালে রোগীর স্বর্ণ চুরির চেষ্টা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৪ নারীর ৬ মাসের কারাদণ্ড বাঞ্ছারামপুর ও নাসিরনগরের চার নারী দণ্ডিত, আটক করেন আনসার সদস্যরা স্ত্রী থাকতে শালিকাকে বিয়ে করলেন দুলাভাই, কান্নায় ভেঙে পড়লেন আগের স্ত্রী মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের কক্ষে ১৭ লাখ টাকা: অর্থের উৎস ও লুটের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন মাদারীপুরের কালকিনিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় আলীনগর ইউনিয়নের বাসিন্দারা একজন আদর্শ বাবা কি শুধু শরীরের শক্তিতে, নাকি ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ১০৯ জনের মৃত্যু, সিলেটের ২৪ ও হবিগঞ্জের ১০ জন বাঞ্ছারামপুরে একই দিনে তালাক ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, তিন দিন পর আগের সংসারে ফেরা

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: অভিযোগ, বিচার ও কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য

১৬০

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: অভিযোগ, বিচার ও কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন তথ্য


ডেস্ক রিপোর্ট | ডেইলি নিউজ বাঞ্ছারামপুর
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় মসজিদের ভেতরে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত এবং অভিযুক্তরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।
ঘটনাটি জানার পর বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিচারিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ঢাকা।
কারা সেই দুই বাংলাদেশি?
সৌদি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। তাঁদের বিরুদ্ধে মক্কার একটি মসজিদে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের আটক করার পর তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আদালতে পাঠানো হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেয় এবং তাআজির বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তির বিধানের আওতায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দণ্ড কার্যকর করা হয়।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে কথিত কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, ঘটনার সময়, সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচয় কিংবা গ্রেপ্তারের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সৌদি মিশনের শ্রমকল্যাণ শাখার একটি বার্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মসজিদের ভেতরে ব্যভিচারের অভিযোগ ছিল। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিবৃতিতে অভিযোগের পূর্ণ বিবরণ বা মামলার বিস্তারিত সাক্ষ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, কোন আইনি বিধানের আওতায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আদালত কী কী প্রমাণ বিবেচনায় নিয়েছে—এসব বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
একইভাবে তাঁরা আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ কতটা পেয়েছিলেন এবং আপিলের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে প্রকাশিত তথ্যের সীমাবদ্ধতা থেকে বিচারপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মামলার নথি ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
বন্দির তালিকায় নাম ছিল, কিন্তু মৃত্যুদণ্ডের তথ্য ছিল না
১৮ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গত সেপ্টেম্বরে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা চেয়েছিল। জবাবে পাঠানো প্রায় ২ হাজার ৫০০ বন্দির তালিকায় ওই দুই বাংলাদেশির নামও ছিল।
তবে ওই তালিকায় তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ ছিল না বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়। তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ‘adultery’ এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে ‘ICT’ উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু ওই তালিকার তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে তাঁদের নাম নিশ্চিতভাবে মেলানো সম্ভব ছিল না।
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বন্দিদের তালিকায় নাম থাকা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রতিটি পর্যায়ের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া এক বিষয় নয়। তবে তালিকায় নাম থাকার পরও সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির মামলার অগ্রগতি কেন জানা যায়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
মৃত্যুদণ্ডের আগে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ১৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে ঢাকা।এরপর ১৫ অক্টোবর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়ে দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিচার চলাকালে বাংলাদেশি মিশনের সঙ্গে ওই দুই নাগরিকের যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না। কনস্যুলেট আগে মৃত্যুদণ্ডের খবর জানত না—এ তথ্য থেকে অবশ্য নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে তাঁরা কোনো আইনি সহায়তাই পাননি।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক, বিস্তারিত চায় বাংলাদেশ
১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলাম বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি সরকারের কাছে আগে পাঠানো কূটনৈতিক চিঠির একটি অনুলিপি রাষ্ট্রদূতের হাতে দেওয়া হয়।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ তখনো সৌদি আরবের কাছ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবরণ পায়নি। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল তথ্য ও ব্যাখ্যা চাওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত বৈঠক; একে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো মূলত কয়েকটি বিষয় জানতে চাওয়া হচ্ছে—দুই নাগরিকের পরিচয় ও নাগরিকত্বের বিস্তারিত, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আদালতের রায় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি।মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে কী জানা গেছে?
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না এবং মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।১৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রথম আলো-এর ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কী করা সম্ভব, তা জানা যাবে।অর্থাৎ, মরদেহ হস্তান্তর বা দেশে ফেরানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য তখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ।এখন বাংলাদেশের করণীয় কী?ঘটনাটি ঘিরে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা। দ্বিতীয়ত, বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী ও দোভাষীর সহায়তা এবং কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। তৃতীয়ত, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া।একই সঙ্গে বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ মামলায় দ্রুত কনস্যুলার সহায়তা এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো চূড়ান্ত শাস্তির ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উপসংহার সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি শুধু একটি ফৌজদারি মামলার ঘটনা নয়; এটি বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা, কনস্যুলার যোগাযোগ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সহযোগিতার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে, মৃত্যুদণ্ডের আগে তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত ছিল না এবং এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।তাই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, আদালতের রায়, আইনি সহায়তার বিবরণ এবং মরদেহ হস্তান্তরসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ জরুরি। এসব তথ্য সামনে এলেই বিচারপ্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে আরও স্পষ্ট মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং বিডিনিউজ২৪ ডটকম-এ ১৫–১৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page