বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রশাসনিক নাম বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি মো রোমন হায়দার | বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘ ৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ রাখার অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা, সাহিত্যিক, পাঠক এবং সচেতন নাগরিকরা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘ছাত্র-জনতা, সাহিত্যিক, পাঠক ও সচেতন নাগরিক’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘নাম নয়, চাই ঐতিহ্যের সম্মান’, ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগারের মুক্তি চাই’-সহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বাঞ্ছারামপুর গণপাঠাগার’ উপজেলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি পাঠাগারটি সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হলেও স্থানীয় জনগণ, পাঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এর নাম পরিবর্তন করে ‘উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’ রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, যে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং যার সঙ্গে বাঞ্ছারামপুরের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে, সেই পাঠাগারের ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা কী? জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পাঠাগারটি পুনরায় চালু করা, নাম পরিবর্তন করা নয়।
তারা আরও বলেন, ২০১২ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো পাঠাগার ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘদিন এটি বন্ধ অবস্থায় ছিল। ২০১৩ সাল থেকে শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও স্থানীয় জনগণ ধারাবাহিকভাবে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা ছাত্রসমাজের আবেদনের প্রেক্ষিতে পাঠাগারটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি চালু হওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী নাম পরিবর্তন করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে পাঠাগারের নাম পুনর্বিবেচনার দাবিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
স্মারকলিপিতে পাঠাগারের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়াত সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা-এর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘ফেরদৌস আরা স্মৃতি পাবলিক লাইব্রেরি’ অথবা ‘উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি’—এই দুটি নামের যেকোনো একটি চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পাঠাগারটি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি বাঞ্ছারামপুরের সব মানুষের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। তাই এর নাম নির্ধারণেও জনগণের মতামত ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।