৯ম শ্রেনীর স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৩ জন
পাবনা বিশেষ প্রতিনিধি: পাবনার ভাড়ারা এলাকায় ৯ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তার সঙ্গে চাচাতো ভাই নাইমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার রাতে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের দাবি, ঘটনার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে সেটি বস্তাবন্দী করা হয়। পরে একটি প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। বুধবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা নদীর তীরে একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ বস্তার ভেতর থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে প্রধান অভিযুক্ত নাইমসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হবে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এদিকে, এক মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।