বাঞ্ছারামপুরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গৃহবন্দীর অভিযোগ
তিন দিন ধরে অনাহারে শিশু, তদন্তে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি মো রোমন হায়দার , বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চলাচলে বাধার কারণে তিন শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা গত তিন দিন ধরে খাদ্যসংকটে রয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ একটি জমিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিন দিন আগে প্রতিপক্ষ বাড়ির যাতায়াতের পথ আটকে দেয়। এতে পরিবারের সদস্যরা রান্নাঘরে যেতে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। পরিবারের দাবি, ঘরে থাকা খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী বলেন, “আমরা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজের বাড়িতেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। ছোট ছোট বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্না করছে। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”মুক্তিযোদ্ধার নাতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রান্নাঘরে যাতায়াতের পথ বন্ধ থাকায় তারা খাবার রান্না করতে পারছেন না। তিনটি শিশু নিয়ে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি তাদের মালিকানাধীন। নিজেদের জায়গায় বেড়া দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হবে।এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। পরিবারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।