বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
Headline :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল হাসান আব্দুল্লাহ। বাঞ্ছারামপুর মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি পেরিয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের আলোচনায় ইব্রাহিম সরকার হোমনায় কীটনাশকের ট্যাবলেট খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা-থানায় একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। মানিকপুর ইউনিয়ন ভূমি সেবা অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফাকে হুমকি দেওয়ার দাবি। বাঞ্ছারামপুর রূপসদী দক্ষিণ বিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৩ দিন ধরে নিখোঁজ জহিরুল ইসলাম, সন্ধান চায় পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে এইচআরডিএসের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬: জেলা পর্যায়ের ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিল উজানচর কে.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐতিহ্যবাহী উজানচর কংস নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নেতৃত্বে আসছেন কে?প্রশ্ন জনমনে? বাঞ্ছারামপুরে ১৪ শিক্ষক, এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন, পাস করেছে ১ জন; শিক্ষার মান নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

বাঞ্ছারামপুরে বিয়েকে কেন্দ্র করে বরের বাবাকে আটকের অভিযোগ

২৪৪

বাঞ্ছারামপুরে বিয়েকে কেন্দ্র করে বরের বাবাকে আটকের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:DNB NEWS
প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বরের বাবা মনু মিয়াকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে একটি অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছে বরপক্ষ। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মনু মিয়ার স্বজনরা।
ঘটনাটি উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের নবীপুর ডোমরাকান্দি ও পার্শ্ববর্তী জয়কালিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে।
বরপক্ষের দাবি, গত ১৭ সেপ্টেম্বর আল আমিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার তিশা ও মনু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়ার মধ্যে বাঞ্ছারামপুরের একটি কাজী অফিসে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের ভাষ্য, উভয়ের সম্মতিতে এবং সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিকাহনামায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিয়েটি সম্পন্ন ও নিবন্ধিত হয়। নিকাহনামায় কনের জন্মতারিখ ১১ মার্চ ২০০৮ উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেছে বরপক্ষ।বরপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের বিষয়টি কনের পরিবার মেনে নেয়নি। এরই মধ্যে গত রাতে আনুমানিক রাত ২টার দিকে কনের বাবা আল আমিনসহ কয়েকজন জয়কালিপুর এলাকায় নাঈমদের বাড়িতে যান। সেখানে ঘুমন্ত অবস্থায় নাঈমের বাবা মনু মিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে ডোমরাকান্দি এলাকায় আটকে রাখার অভিযোগ করেন তারা।পরে কনের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ ডোমরাকান্দি এলাকা থেকে মনু মিয়াকে হেফাজতে নেয় বলে দাবি করেছে বরপক্ষ।
অপহরণ মামলায় যে অভিযোগকনের বাবা আল আমিনের করা এজাহারে তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এজাহারে মেয়েটিকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং বয়স ১৩ বছর উল্লেখ করা হয়েছে বলে বরপক্ষের দাবি।
এজাহারে নাঈম মিয়া, তার বাবা মনু মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে বরপক্ষের দাবি, এজাহারে উল্লেখ করা বয়সের সঙ্গে নিকাহনামায় থাকা জন্মতারিখের অসঙ্গতি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিকাহনামায় জন্মতারিখ ১১ মার্চ ২০০৮ উল্লেখ থাকলে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তার বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ার কথা।
বাংলাদেশের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী নারীর বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে এ ক্ষেত্রে কনের প্রকৃত বয়স নির্ধারণে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি ও অন্যান্য আইনগত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।স্বেচ্ছায় বিয়ের দাবি বরপক্ষের বরপক্ষের দাবি, কনে নিজ ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নাঈমের কাছে যান এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। তবে কনের বয়স, বিয়েতে তার সম্মতি এবং তাকে অপহরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মনু মিয়াকে কী পরিস্থিতিতে এবং কোন অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন তার স্বজনরা।তাদের প্রশ্ন, নিকাহনামা, কনের প্রকৃত বয়স, বিয়ের সময় তার সম্মতি এবং অপহরণের অভিযোগ—এসববিষয় তদন্তে যাচাই করা হয়েছে কি না।বরপক্ষের স্বজনরা মনু মিয়াকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে উভয় পক্ষের বক্তব্য, নিকাহনামা, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য বয়সসংক্রান্ত নথি, মামলার এজাহার এবং ঘটনাস্থলের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।এ বিষয়ে কনের পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্যও জানা যায়নি।স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে বিয়ে, অপহরণের অভিযোগ এবং মনু মিয়াকে আটকের প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page