শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল হাসান আব্দুল্লাহ। বাঞ্ছারামপুর মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি পেরিয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের আলোচনায় ইব্রাহিম সরকার হোমনায় কীটনাশকের ট্যাবলেট খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা-থানায় একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। মানিকপুর ইউনিয়ন ভূমি সেবা অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফাকে হুমকি দেওয়ার দাবি। বাঞ্ছারামপুর রূপসদী দক্ষিণ বিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৩ দিন ধরে নিখোঁজ জহিরুল ইসলাম, সন্ধান চায় পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে এইচআরডিএসের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬: জেলা পর্যায়ের ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিল উজানচর কে.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐতিহ্যবাহী উজানচর কংস নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নেতৃত্বে আসছেন কে?প্রশ্ন জনমনে? বাঞ্ছারামপুরে ১৪ শিক্ষক, এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন, পাস করেছে ১ জন; শিক্ষার মান নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও শিক্ষক হতে পারলেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই তরুণ

২১৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও শিক্ষক হতে পারলেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই তরুণ

মো:রোমন হায়দার বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:DNB NEWS

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে পার করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুই তরুণ জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়া। লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত সুপারিশ—সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আটকে যায় তাদের নিয়োগ। ফলে শিক্ষক হওয়ার বহুদিনের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

জুবায়েরুল ইসলামের বয়স ৩১ বছর ৬ মাস। সরকারি চাকরির বয়সসীমার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। পরিবারের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছায় অতীতে দুটি সরকারি চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানান। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনি।

কিন্তু পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জুবায়েরুল। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত নই। কাগজপত্র কিংবা ঠিকানাগত কোনো সমস্যাও নেই। তাহলে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো, সেটিই জানতে চাই। কারণ না জেনে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে।”

একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন উপজেলার আরেক তরুণ রুবেল মিয়া। কৃষক পরিবারের সন্তান রুবেল চাকরিটিকে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সুখবরও জানিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এখন তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

রুবেল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও নেই। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও এমন কিছু নেই। তারপরও নিয়োগ আটকে গেছে। বিষয়টি আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। এখন মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতেও অস্বস্তি লাগে।”

দুজনই তাদের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে তবে সেটি জানার অধিকার তাদের রয়েছে। আর যদি কোনো ভুল না থাকে, তাহলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বলেন, “এবারের নিয়োগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে দুজন বাদ পড়েছেন। কাগজপত্রের জটিলতা বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়।”

চাকরির বয়সসীমা প্রায় শেষ হয়ে আসা দুই তরুণ এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধানের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page