মেগাফোন হাতে মাঠে ইউএনও ও ওসি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
কসবায় অটোরিকশা-বাইক ধাক্কায় ৩ গ্রামের র/ক্ত/ক্ষ/য়ী সং/ঘ/র্ষ, আ/হ/ত অন্তত ৩০জন

স্টাফ রিপোর্টার: রোমন হায়দার (বাঞ্ছারামপুর)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সামান্য ধাক্কাকে কেন্দ্র করে তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। মাঠে নেমে মেগাফোন হাতে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কসবা উপজেলার তিনলাখপীর-চারগাছ সড়কের পাশে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্যামবাড়ি গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক লাদেনের গাড়ির সঙ্গে হাতুড়াবাড়ি গ্রামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর সামান্য ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে বিষয়টি দুই গ্রামের বিরোধে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে জড়ো করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্যামবাড়ি ও হাতুড়াবাড়ি গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা, ফালা ও টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে শ্যামবাড়ি গ্রামের পক্ষে নিমবাড়ি গ্রামের লোকজন যোগ দিলে সংঘর্ষটি ত্রিমুখী রূপ নেয়। এতে পুরো তিনলাখপীর-চারগাছ সড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং যান চলাচল ও আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম এবং কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হ্যান্ডমাইক ও মেগাফোন ব্যবহার করে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে তিনলাখপীর-চারগাছ সড়কসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে যেকোনো বিরোধ প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।