বাঞ্ছারামপুরে অবহেলিত বৃদ্ধা মায়ের পাশে ইউএনও, নিরাপদ আবাসন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান
মো রোমন হায়দার। বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) | ১৩ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার টিএনটি পাড়ায় দুই ছেলের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও টিনের একটি জরাজীর্ণ খুপরিতে মানবেতর জীবনযাপন করা এক বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ইউএনও তারিকুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বৃদ্ধার করুণ জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে কঠোর নির্দেশনা দেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বৃদ্ধা মায়ের জন্য তাঁর ছেলের পাকা ভবনের ভেতরে একটি কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তিনি নিরাপদ, সম্মানজনক ও মানবিক পরিবেশে বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে শুকনো খাবার এবং নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবারের অপর ছেলে ও এক নাতিকে পরদিন ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃদ্ধার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও তারিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের প্রতি সম্মান, যত্ন ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজ ও পরিবারে এমন অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা কি সত্যিই সভ্য হচ্ছি? নাকি শুধু আমাদের বাড়িগুলো পাকা হচ্ছে, অথচ হৃদয়গুলো ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হচ্ছে? একজন বাবা কিংবা মা বার্ধক্যে বিলাসবহুল জীবন চান না; তাঁরা শুধু চান সন্তানের ঘরে একটুখানি জায়গা, দুই বেলা দুমুঠো ভাত আর একটু সম্মান।”
ঘটনার ভিডিও ও ইউএনওর অভিযানের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী অবহেলাকারী সন্তানদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাঁদের মতে, আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ শুধু একজন অসহায় মায়ের জীবনেই স্বস্তি ফিরিয়ে আনেনি, বরং সমাজে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।