বাঞ্ছারামপুরের মরিচাকান্দী লঞ্চঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ: অতিরিক্ত ভাড়া, শিশুদের কাছ থেকেও ভাড়া আদায়, নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষোভ।
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:মো রোমন হায়দার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ মরিচাকান্দী লঞ্চঘাটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নিরাপত্তা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর তদারকির অভাবে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
জানা যায়, পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এই লঞ্চঘাটে ১৯৬৬ সাল থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। প্রায় ছয় দশক ধরে বাঞ্ছারামপুরসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই নৌপথ ব্যবহার করে আসছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌঘাটে নানা ধরনের অনিয়ম এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হাতে থাকা মালামালের জন্য আলাদা ভাড়া দাবি এবং শিশুদের কাছ থেকেও ভাড়া নেওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এছাড়া বড় অঙ্কের টাকা দিলে ভাংতি ফেরত দিতে গড়িমসি কিংবা নানা অজুহাত দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, ঘাটে পণ্য ওঠানামার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অনেক যাত্রী জানান, প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
এদিকে রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত না করেই স্পিডবোট চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও এই নৌপথে একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ঘাট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি থাকলে অধিকাংশ অনিয়মই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সম্প্রতি তিন বছরের একটি শিশুর কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর থেকেই ঘাটের ভাড়া আদায় পদ্ধতি, যাত্রীসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
নিয়মিত যাতায়াতকারী এক যাত্রী বাংলাদেশ সমাচারকে বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। শুধু নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া, নিরাপদ যাতায়াত এবং হয়রানিমুক্ত সেবা চাই। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, মরিচাকান্দী লঞ্চঘাটে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য ভাড়া আদায়, যাত্রী নিরাপত্তা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।