বাঞ্ছারামপুরে ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, নামজারির নামে লাখ টাকা দাবি; থানায় জিডি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নামজারি ও জমাখারিজের নামে প্রতারণার অভিযোগ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নামজারি (ই-নামজারি) ও জমাখারিজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি ভূমি অফিসের পরিচয় ব্যবহার করে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নামজারি দ্রুত অনুমোদনের প্রলোভন দেখিয়ে লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে।
এ ঘটনায় উপজেলা ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এবং সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিধি-বিধান ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে বর্তমানে নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদন ফি ১,১০০ টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হয়। সরকারি এই নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে নগদ অর্থ দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
তবে সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সক্রিয় কিছু দালাল ও প্রতারক ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা দ্রুত নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নাগরিকদের ভূমি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ই-নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ বা অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে একটি দালাল ও প্রতারক চক্র সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এসব প্রতারকের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো সম্পর্ক নেই। কেউ যদি নামজারির কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, তাহলে সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) অথবা উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ জানান।”
তিনি জানান, প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে সকল সেবাগ্রহীতাকে সতর্ক থাকার এবং কোনো প্রকার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।