কার ক্ষমতায় ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মাত্র ৩ ঘণ্টা! বাঞ্ছারামপুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের কাছে জবাব চান ক্ষুব্ধ উপজেলাবাসী
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:মো:রোমন হায়দার
২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ—এমন অভিযোগে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কুমিল্লা-৩ (বাঞ্ছারামপুর) এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুতের বিল নিয়মিত পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। অনেক সময় সারাদিন-রাত মিলিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিদ্যুতের দাম ও বিল পরিশোধের চাপ বাড়লেও সেবার মান কেন কমছে? নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে বিল পরিশোধ করার পরও যদি দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এর জবাবদিহিতা কার?
‘২৪ ঘণ্টায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ—এটা কীভাবে সম্ভব?’
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত জনগণকে সমস্যার প্রকৃত কারণ জানানো। কিন্তু দিনের পর দিন একই পরিস্থিতি চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, বাঞ্ছারামপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি, চাহিদা ও প্রাপ্তির হিসাব এবং লোডশেডিংয়ের কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক।
ভোটের সময় মানুষের কথা মনে থাকে, বিদ্যুৎ সংকটে কেন নয়?
স্থানীয়দের মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ভোটের সময় গরিব-অসহায় মানুষ, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়া হয়। কিন্তু জনগণের মৌলিক সেবা বিদ্যুৎ নিয়ে যখন চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়, তখন তাদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা কোথায়—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করলে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে কাঙ্ক্ষিত উত্তর দেওয়া হয় না। তারা চান, বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে জনগণের সামনে স্পষ্ট করা হোক।
ডিজিএমের কাছে সরাসরি প্রশ্ন
বাঞ্ছারামপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএমের উদ্দেশে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি মাত্র প্রায় ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, তাহলে এর কারণ কী? বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত কারণ কোথায়? আর এই দুর্ভোগ থেকে বাঞ্ছারামপুরবাসী কবে মুক্তি পাবে?
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জনগণকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাঞ্ছারামপুরবাসীর এখন একটাই দাবি—বিল যদি নিয়মিত দিতে হয়, তাহলে বিদ্যুৎও নিয়মিত দিতে হবে। আর ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগের জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।