বাঞ্ছারামপুরে ভুয়া চিকিৎসক মো. শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান, ২০ হাজার টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার | মো. রোমন হায়দার
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ৭ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখার অভিযোগে মো. শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সনদ ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরের নূরজাহান শপিংমলে অবস্থিত ‘হাজী মুখলেছুর রহমান চক্ষুসেবা কেন্দ্র ও চশমাঘর’-এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহর কোনো বৈধ চিকিৎসা সনদ, নিবন্ধন বা অনুমোদিত কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযুক্ত মো. শহীদুল্লাহ কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার বাসিন্দা এবং শামসুল আলম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, মো. শহীদুল্লাহ প্রায় ১০ বছর ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং কুমিল্লার হোমনাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখতেন। এছাড়া বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মিয়া, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি , এসআই লুতফুর রহমান এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতারণার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে স্থানীয়ভাবে নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।