বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
Headline :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল হাসান আব্দুল্লাহ। বাঞ্ছারামপুর মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি পেরিয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের আলোচনায় ইব্রাহিম সরকার হোমনায় কীটনাশকের ট্যাবলেট খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা-থানায় একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। মানিকপুর ইউনিয়ন ভূমি সেবা অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফাকে হুমকি দেওয়ার দাবি। বাঞ্ছারামপুর রূপসদী দক্ষিণ বিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৩ দিন ধরে নিখোঁজ জহিরুল ইসলাম, সন্ধান চায় পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে এইচআরডিএসের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬: জেলা পর্যায়ের ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিল উজানচর কে.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐতিহ্যবাহী উজানচর কংস নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নেতৃত্বে আসছেন কে?প্রশ্ন জনমনে? বাঞ্ছারামপুরে ১৪ শিক্ষক, এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন, পাস করেছে ১ জন; শিক্ষার মান নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

বাঞ্ছারামপুরে দুই মৃ/ত্যু ঘিরে র/হ/স্য: ফুল মেহের হ/ত্যা/র পর প্রা/ণ দিলেন মিনা বেগম

৩৮২

বাঞ্ছারামপুরে দুই মৃত্যু ঘিরে রহস্য: ফুল মেহের হত্যার পর প্রাণ দিলেন মিনা বেগম


নিজস্ব প্রতিবেদক | বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বৃদ্ধা ফুল মেহের (৭৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই ঘটেছে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। হত্যার আগের দিন যাঁর বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন ফুল মেহের, সেই মিনা বেগম (৪৫) চার দিন পর চালের পোকা মারার কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিনা বেগম একই গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে পরিবারের অগোচরে ঘরে রাখা কীটনাশক ট্যাবলেট সেবন করেন মিনা বেগম। পরে তিনি বাড়িতেই মারা যান। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে একই গ্রামের বাসিন্দা ফুল মেহেরের মরদেহ নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয়। তার গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচানো ছিল। পরিবারের অভিযোগ, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মোস্তাফা কামাল বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুর আগের দিন ফুল মেহের মিনা বেগমের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই অনেকেই মিনা বেগমকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের স্বামী চাঁন মিয়া বলেন, “ফুল মেহের হত্যার পর প্রতিদিনই প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন বাড়িতে এসে মিনাকে নানা প্রশ্ন করতেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই তাকে হত্যাকারী বলে কটূক্তি করতেন। এতে সে চরম মানসিক চাপে ভুগছিল। সেই চাপ থেকেই হয়তো সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।”
মিনা বেগমের মেয়ের জামাই মাইনুদ্দিন খান বলেন, “ফুল মেহের হত্যার ঘটনায় আমার শাশুড়িকে নিয়ে এলাকায় নানা কথা হচ্ছিল। মানুষ প্রতিদিন বাড়িতে এসে তাকে অপমান করত এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত কি না জানতে চাইত। এসব তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না।”
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৩ জুলাই) তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মিনা বেগম ও তার স্বামী চাঁন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর থেকে তারা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো মামলার তদন্তে তথ্য সংগ্রহের জন্য কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা মানেই তিনি অপরাধী নন। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হয়ে থাকে।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক হতাশা ও অভিমান থেকেই ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একই গ্রামের ব্যবধানে কয়েক দিনের মধ্যে দুই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ফুল মেহের হত্যা মামলার রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। এর মধ্যেই সন্দেহ, গুঞ্জন ও সামাজিক চাপের আবহে আরেকটি প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
(বিঃদ্রঃ আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তদন্ত এখনো চলমান। তাই অপবাদ বা সামাজিক চাপকে আত্মহত্যার নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়, বরং পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page