বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন
Headline :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল হাসান আব্দুল্লাহ। বাঞ্ছারামপুর মামলা-হামলা ও নির্যাতনের স্মৃতি পেরিয়ে ছাত্রদলের নেতৃত্বের আলোচনায় ইব্রাহিম সরকার হোমনায় কীটনাশকের ট্যাবলেট খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা-থানায় একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। মানিকপুর ইউনিয়ন ভূমি সেবা অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফাকে হুমকি দেওয়ার দাবি। বাঞ্ছারামপুর রূপসদী দক্ষিণ বিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৩ দিন ধরে নিখোঁজ জহিরুল ইসলাম, সন্ধান চায় পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে এইচআরডিএসের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বই পড়া কর্মসূচি-২০২৬: জেলা পর্যায়ের ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নিল উজানচর কে.এন. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐতিহ্যবাহী উজানচর কংস নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরিদর্শক বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নেতৃত্বে আসছেন কে?প্রশ্ন জনমনে? বাঞ্ছারামপুরে ১৪ শিক্ষক, এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাত্র ৫ জন, পাস করেছে ১ জন; শিক্ষার মান নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

তিন লাখ মানুষের জন্য নেই একটি পাবলিক টয়লেটও, চরম ভোগান্তিতে বাঞ্ছারামপুরবাসী

৩৫৬

তিন লাখ মানুষের জন্য নেই একটি পাবলিক টয়লেটও, চরম ভোগান্তিতে বাঞ্ছারামপুরবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি মোহাম্মদ রোমন হায়দার , বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস হলেও নেই কোনো আধুনিক পাবলিক টয়লেট বা গণশৌচাগার। এমনকি ‘বি’ ক্যাটাগরির বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করলেও নাগরিকদের জন্য নেই একটি কার্যকর গণশৌচাগার। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা।

 


উপজেলার প্রাণকেন্দ্র উপজেলা পরিষদ চত্বর সংলগ্ন এলাকা, ঢাকা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মাতু বাড়ির মোড় চৌরাস্তা এবং প্রতাপগঞ্জ বাজারসহ জনবহুল এলাকায় কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ বিভিন্ন কাজের জন্য উপজেলা সদরে আসেন। এছাড়াও রয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের শাখা, শপিংমল ও মার্কেট। এসব এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হলেও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধার অভাব প্রকট।

 


স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতাপগঞ্জ বাজারে পৌরসভার উদ্যোগে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হলেও সেখানে নারীদের ব্যবহারের জন্য কোনো পৃথক ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেটিও এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।
ছলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, “এ এলাকায় কোনো পাবলিক টয়লেট না থাকায় যেখানে-সেখানে মূত্রত্যাগ করছে মানুষ। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হলে অনেক সময় ব্যাংক কিংবা ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অনুমতি নিতে হয়। এটা অত্যন্ত বিব্রতকর।”
পাড়াতলি গ্রামের বাসিন্দা পারভিন আক্তার বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা প্রয়োজন। অনেক মানুষের টাকা দিয়ে টয়লেট ব্যবহার করার সামর্থ্যও থাকে না। তাই ফ্রি পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা উচিত।”

 


বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, “গণশৌচাগারের সংকটে অনেকেই দীর্ঘ সময় বেগ চেপে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে খোলা স্থানে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কর্মজীবী নারী ও ছাত্রীরা। অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।”
একজন নারী ভুক্তভোগী বলেন, “বাইরে বের হলে আমরা কম পানি ও খাবার গ্রহণের চেষ্টা করি। চারদিকে অনেক এটিএম বুথ থাকলেও পাবলিক টয়লেট বা ব্যবহারযোগ্য ওয়াশরুম নেই। যেগুলো আছে, সেগুলোও নারীদের জন্য উপযোগী নয়।”
নারী উদ্যোক্তা মুন্নী বেগম বলেন, “অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ চেপে থাকতে হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ওয়াশরুমের জন্য শপিংমল বা রেস্টুরেন্ট খুঁজতে হয়। রাত হলে সেটাও পাওয়া যায় না। এত শপিংমল থাকলেও নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুম নেই।”

 


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার কারণে ইউরিন ইনফেকশন, কিডনির জটিলতা এবং রেচনতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, “দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখলে মূত্রথলির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রস্রাবের পরও মূত্রথলিতে প্রস্রাব জমে থাকতে পারে। পরবর্তীতে এটি পাথর, সংক্রমণ এবং কিডনি বিকলের মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।”
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “পাবলিক টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা আমরা স্বীকার করি। পৌরসভার পর্যাপ্ত বাজেট রয়েছে, অর্থ কোনো সমস্যা নয়। তবে উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সম্ভাব্য স্থান খুঁজছি এবং আশা করছি খুব দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ এলাকা, মাতু বাড়ির মোড়, প্রতাপগঞ্জ বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত গণশৌচাগার নির্মাণ করা হোক। এতে একদিকে যেমন নাগরিক ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page