ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি: দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পালাতে সহায়তায় মামলা, আটক ২।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ মোঃ সোবেল মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে অন্য এক আসামির জামিননামা ব্যবহার করে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির পলায়নের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গত ২৯ জানুয়ারি রাতে জেলার মনজুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মূল পলাতক আসামিসহ মোট ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পলায়নকারী আসামি হৃদয় নিজেকে সাধারণ একটি মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামি দিদার হোসেন হিসেবে উপস্থাপন করেন। অত্যন্ত সুকৌশলে কারাগারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও রক্ষীদের বিভ্রান্ত করেন তিনি। এ সময় হৃদয় দাবি করেন যে, তার ‘কেস হিস্ট্রি টিকিট’-এর ছবি হারিয়ে গেছে। তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন কারাগারে থাকা অন্যান্য আসামিরা। তারা হৃদয়ের পরিচয় দিদার হোসেন হিসেবে নিশ্চিত করে মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করেন।
পরিকল্পিত প্রতারণা:
কারা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। জামিনপ্রাপ্ত দিদার হোসেনসহ ২ থেকে ৭ নম্বর আসামিদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে, অনৈতিক লাভের আশায় তারা পরস্পর যোগসাজশে হৃদয়কে ছদ্মবেশ ধারণ এবং প্রতারণার মাধ্যমে পালাতে সহায়তা করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ:
ঘটনার পরপরই মূল জামিনপ্রাপ্ত দিদার হোসেন ও পলাশ নামে দুই আসামিকে কারাগার থেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এভাবে পলায়নের ঘটনায় কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পলাতক আসামি হৃদয়কে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।