মো রোমন হায়দার বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি//ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আলোচিত রিমন মিয়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নবীনগর উপজেলার নতুন থোল্লাকান্দি গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. হারিছ (২৫) এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বাবু (৩৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে দুইজনকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহরিয়াকান্দি ইউনিয়নের উলুকান্দী শেখ হাসিনা কলেজ মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে রিমন (২২) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রিমন নবীনগর উপজেলার নতুন থোলাকান্দি গ্রামের ফুরকান মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কলেজ মাঠের পাশের একটি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ সুপার ও পিবিআইয়ের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।