বাঞ্ছারামপুরে একই দিনে তালাক ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, তিন দিন পর আগের সংসারে ফেরা
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: মো. রোমন হায়দার | DNB NEWS
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় একই দিনে তালাক ও দ্বিতীয় বিয়ে এবং তিন দিন পর আগের স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) বিল্লাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ে ও তালাকের আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার আইয়ূবপুর ইউনিয়নের চর ছয়ানী গ্রামে দুবাইপ্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি কথিত প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে পড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কাবিননামায় রবিউল্লাহ ও আলম মিয়া সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
তিন দিন পর আগের স্বামীর সংসারে ফেরার অভিযোগ
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তিন দিন পর, ৩ অক্টোবর, ওই নারীকে দ্বিতীয় স্বামীর সংসার থেকে ফিরিয়ে আগের স্বামীর কাছে পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় কাজী বিল্লাল হোসেন মধ্যস্থতা করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।তবে কী প্রক্রিয়ায় প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদ, দ্বিতীয় বিয়ে এবং পরবর্তী সময়ে আগের স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে কাজী, দুই স্বামী এবং সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
বিয়ে ও তালাকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন এবং ধর্মীয় বিধান অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারায় তালাকের নোটিশ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিধান রয়েছে। সাধারণভাবে, চেয়ারম্যানের কাছে তালাকের নোটিশ পৌঁছানোর পর ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না—তবে আইনের নির্দিষ্ট বিধান ও পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়।অন্যদিকে, তালাকের পর পুনর্বিবাহের বৈধতা নির্ধারণে তালাকের ধরন, কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই শুধু একই দিনে তালাক ও দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কাবিননামা, তালাকের নোটিশ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা জরুরি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ঘটনাটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম জড়িত থাকতে পারে। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।ঘটনার বিষয়ে কাজী বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নারী ও তাঁর দুই স্বামীর বক্তব্য এবং স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মন্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।