সৌদিতে নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া


মো.রোমন হায়দার, বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:
সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাঁর পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ভাতিজার মৃত্যুসংবাদ শোনার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাঁর ফুফু আবেদা বেগম। একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু—দুই ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্বজনেরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। খবরটি জানার পর থেকেই পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পরিবারের অভিযোগ, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা।
ভাতিজার মৃত্যুসংবাদে ফুফুর মৃত্যু
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাতিজা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শোনার পর বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ফুফু আবেদা বেগম। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটির শোক আরও গভীর হয়েছে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় স্বজনেরা এখন দিশেহারা।
কী অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর?
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কায় একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে নজরুল ইসলাম আব্দুল বাসির ও সিতি আখতার নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাজকীয় আদেশের ভিত্তিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে অভিযোগের প্রকৃতি, বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য এবং নজরুলের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ব্যাখ্যা চেয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেনি। এ ঘটনায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কূটনৈতিক যোগাযোগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি
নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো ছেলেকে দেখার সুযোগ দিতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মা ও স্বজনেরা। তাঁরা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা, পরিবারকে আগে থেকে অবহিত না করার অভিযোগ এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি—সব মিলিয়ে শোক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে স্বজনদের। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।