৫ বছরের সন্তান রুফাইদ আল রাওনাফকে উদ্দেশ করে স্ত্রী চলে যাওয়ার পর বাবার আবেগঘন খোলা চিঠি

মো:রোমন হায়দার,বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি:
মাত্র পাঁচ বছরের সন্তানকে রেখে স্ত্রী চলে যাওয়ার পর নিজের সন্তানের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন এক বাবা। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি সন্তানের প্রতি নিজের ভালোবাসা, ভবিষ্যতের দায়িত্ব এবং কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন।

চিঠিতে ওই বাবা লিখেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার সকাল ১০টার দিকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা জীবনের এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। এরপর থেকেই পরিবারে তৈরি হয়েছে গভীর শূন্যতা।

পাঁচ বছরের সন্তান রুফাইদ আল রাওনাফকে উদ্দেশ করে বাবা লিখেছেন, তার অবুঝ চোখ হয়তো এখনো চারপাশের পরিবর্তন পুরোপুরি বুঝতে পারছে না। যে মা তাকে প্রতিদিন ঘুম পাড়াতেন এবং যার হাতে খেতে অভ্যস্ত ছিল, সেই মা এখন পাশে না থাকায় শিশুটির মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিঠিতে স্ত্রীকে নিয়ে নিজের কষ্ট, অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা জানালেও সন্তানের মনে মায়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে চান না বলে উল্লেখ করেছেন ওই বাবা। তিনি লিখেছেন, “তোমার কাছে সে সবসময়ই তোমার মা।”

বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য সম্পর্কের এই বিচ্ছেদের জন্য সন্তানের কোনো দায় নেই। সন্তানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাদের জীবনে সে রহমত হয়ে এসেছে এবং এই সত্য কখনো পরিবর্তন হবে না।

চিঠিতে নিজের অবস্থান নিয়েও আত্মসমালোচনা করেছেন ওই বাবা। তিনি লিখেছেন, স্বামী হিসেবে তিনি ব্যর্থ বা অযোগ্য হতে পারেন। তবে বাবা হিসেবে সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনে কোনো কমতি রাখতে চান না।

সন্তানকে একা হাতে বড় করার কঠিন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়ের অভাব পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও ভালোবাসার কোনো কমতি হতে দেবেন না। একই সঙ্গে বাবা ও মায়ের ভূমিকা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওই বাবা লিখেছেন, তিনি চান তার সন্তান একজন চরিত্রবান, সংবেদনশীল, সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক। জীবনের প্রতিটি হাসি-কান্না ও সাফল্যে ছায়ার মতো পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

চিঠির শেষাংশে সন্তানের প্রতি বাবার গভীর আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজের বার্ধক্যে সন্তানের কাছ থেকে সময় চাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সময় সন্তানের হাত ধরে থাকার আকাঙ্ক্ষার কথাও লিখেছেন তিনি।

সবশেষে সন্তানের উদ্দেশে বাবা লিখেছেন, “তোমার বাবা তোমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।” সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে নেক হায়াত ও মঙ্গল কামনা করে চিঠিটি শেষ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই খোলা চিঠিতে বাবার ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। দাম্পত্য বিচ্ছেদের পেছনের কারণ সম্পর্কে চিঠিতে যে বক্তব্য এসেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট বাবার ভাষ্য হিসেবে বিবেচিত।