বাঞ্ছারামপুরের শান্তিপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত একজন,আহত ২০ জন


বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি: রোমন হায়দার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে জুয়েল মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫-৬

জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকার বাড়ি ও সফু সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গত ৩০ জুন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর সফু সরকারের পক্ষের লোকজন এলাকায় ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানান।


স্থানীয়দের দাবি, এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে সফু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী থেকে লোকজন এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জুয়েল মিয়াকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, ‘নিহত জুয়েল মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল (ব্রড ডেড)। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।’
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরেই ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
ওসি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি রাইফেল ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।শান্তিপুরে দীর্ঘদিনের বিরোধ
স্থানীয়দের ভাষ্য, শান্তিপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক দশকে এসব সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ গুলিবিদ্ধ বা টেটাবিদ্ধ হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।