বাঞ্ছারামপুরে বর্ণাঢ্য বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠান; কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান।

স্টাফ রিপোর্টার,মোঃ রোমন হায়দার বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনীয়া স্কুল মাঠে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন অ্যান্ড স্কুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠান-২০২৫’। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফতুয়া জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডক্টরস ডায়াগনস্টিক ল্যাবের চেয়ারম্যান মো. রাফিউল হাকিম মহিউদ্দিন। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন অ্যান্ড স্কুল ফাউন্ডেশনের সভাপতি এম. এ. মুসার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান টিপু। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আবু জাফর মুহাম্মদ সালেহ টিপু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণপুর কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. সফিকুর রহমান, ভুরভুরিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইদুর রহমান, ভুরভুরিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. রুহুল আমিন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. শামীম শিবলী, পূর্বহাটি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন, রামকৃষ্ণপুর কামাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাসুম বিল্লাহ, সমাজসেবক মো. মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রি-ক্যাডেট স্কুল ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম ইসলাম, গোলাম নবী ফাউন্ডেশনের সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মো. জয়নাল আবেদিন এবং চরলহনিয়া ফাইভ স্টার কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন অ্যান্ড স্কুল ফাউন্ডেশনের ক্যাশিয়ার মো. মুছাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষিত, দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার বিকল্প নেই। শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নিয়মিত বৃত্তিপ্রদান ও মেধা মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির সনদ, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় কয়েকজন শিক্ষক ও সমাজসেবীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সম্মাননা প্রদান পর্ব দর্শকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার মানোন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ব্যাপকভাবে অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।