ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে স্বামীর ‘তালাক’ বলার পর অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা, রেখে গেল ৩ বছরের সন্তান
স্টাফ রিপোর্টার মো রোমন হায়দার | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ‘তালাক’ দেওয়ার কথা শুনে অভিমানে ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নাওঘাট মহন মিয়ার বাগানবাড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারজানা আক্তার নাওঘাট পূর্বপাড়ার মিন্টু মিয়ার মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে একই এলাকার আমান উল্লাহর ছেলে সাচ্চু মিয়ার (২৭) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে সাচ্চু মিয়া সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্বামী তালাকের কথা বললে ফারজানা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ ঘরের টিনের রডের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই মোবাইল ফোন বন্ধ থাকলে তার মেয়েকে অকারণে সন্দেহ করতেন স্বামী। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। ঘটনার দিনও ফোনে কথা বলার সময় তার মেয়েকে ‘দুই তালাক’ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর অভিমান করে ফারজানা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি আশুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।