বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ডুবে না থেকে একবার তাকান চট্টগ্রামের দিকে।
নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মা নিজের অনাগত সন্তানের জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছেন গাছের ডালে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নগরী এবং জেলার অনেক নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার বাড়িঘরে। সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলোর একটি—নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মা নিজের জীবন ও অনাগত সন্তানের জীবন বাঁচাতে গাছের ওপর আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। নিরাপদ আশ্রয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন অসংখ্য পরিবার।
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ, পতেঙ্গা, চকবাজার, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার রাউজান, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ একাধিক উপজেলায় বন্যার পানি ঢুকে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এদিকে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুর্গত মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এখনও অনেক পরিবার পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছেন না।
বিশ্বকাপের আনন্দের মধ্যেও ভুলে গেলে চলবে না এই মানবিক সংকটের কথা। আসুন, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আপনার সামান্য সহযোগিতা একটি পরিবারকে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা দিতে পারে।

চারদিকে শুধু বন্যার পানি, নেই নিরাপদ আশ্রয়, নেই পর্যাপ্ত খাবার বা চিকিৎসা।
একদিকে খেলার আনন্দ, অন্যদিকে একজন মায়ের জীবন-মৃত্যুর লড়াই—এই বাস্তবতাও আমাদের দেখা উচিত।
আসুন, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আপনার সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে একটি মা ও তার অনাগত সন্তানের নতুন জীবনের আশার আলো।