বাঞ্ছারামপুরে স্বর্ণালংকার লুটের পর বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) | প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় স্বর্ণালংকার লুটের পর ফুল মেহের (৭৯) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুলারামপুর গ্রামের বাবর আলী সরকারের বাড়ির উঠান থেকে গলায় প্লাস্টিকের রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফুল মেহের সোনারামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত আনু মিয়ার স্ত্রী। প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি বাবার বাড়ি দুলারামপুরে বেড়াতে যান। বুধবার দুপুরের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বাবর আলী সরকারের বাড়ির উঠানে তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের বড় ছেলে মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা তাঁর মায়ের গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। হত্যার পর তাঁর গলা ও কান থেকে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, স্বর্ণ লুটের সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর মাকে চিনে ফেলায় পরিচয় গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বুধবার দুপুরে প্রতিবেশী মিনা নামে এক নারী খাবারের কথা বলে তাঁর মাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া বলেন, গলায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচানো অবস্থায় এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনা স্বর্ণালংকার লুট এবং প্রতিবেশী নারীর ডেকে নেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।