বাঞ্ছারামপুরে ইমাম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য

স্টাফ রিপোর্টার | ডেইলি নিউজ বাঞ্ছারামপুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা ও বিভিন্ন এলাকায় ইমামতি করা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও পোস্ট ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন সর্বশেষ উপজেলার ভেলানগর এলাকায় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। এর আগে তিনি পাঠামারা এলাকার একটি মসজিদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি প্রবাসীদের পরিবারের নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জাকির হোসেনকে নিজের ভুল স্বীকার করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, “আমি যা করেছি, ভুল করেছি। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এসব করেছি। ভবিষ্যতে আর করবো না।” তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 


এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজকর্মী জীবন মাহমুদ, এনসিপি উপজেলা সমন্বয়ক মো. মাইনুদ্দিন এবং রূপসদী ইউনিয়নের বাসিন্দা রনি আহমেদ তুহিন অভিযোগ করে বলেন, একজন ইমাম সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতীক। তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গতকাল বিকেলে তেজখালী, পাহাড়িয়াকান্দী ও দরিয়া দৌলত এলাকার কিছু লোক ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ সময় জাকির হোসেনকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


তবে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। তার পরিবার বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছে। অভিযোগ ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা জুয়েল রানা বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।