কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের টিকার জন্য টাকা দাবির অভিযোগ: আরটিভির সংবাদে অভিযুক্ত নার্স সাময়িক বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার | ডেইলি নিউজ বাঞ্ছারামপুর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের (র‍্যাবিস) টিকা নিতে আসা এক রোগীর স্বজনের কাছে টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. মুর্শিদা আক্তারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
শনিবার (৬ জুন) কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে অভিযুক্ত নার্সকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ (কৈফিয়ত তলব) জারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এক রোগী জলাতঙ্কের টিকা নিতে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্তঃবিভাগে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. মুর্শিদা আক্তার রোগীর স্বজনদের কাছে ২০০ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। রোগীর স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে পরে পরিশোধের আশ্বাস দিলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং রোগীকে টিকা না দিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে আরটিভি নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের নজরে এলে তার নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত নার্সকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বভার থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জারি করা কৈফিয়ত তলব নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির পরিপন্থি এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, “সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা অনিয়মের সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত নার্সকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, রোগীদের সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।