ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্টকে কেন্দ্র করে বাঞ্ছারামপুরে হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ আহত তিন জন গ্রেপ্তার তিন জন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রদল নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কৃষকদল নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ মে) রাতে উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত উল্লাহ নিজের ফেসবুক আইডিতে মাদকবিরোধী একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন,
“কাক সাবান চুরি করার পর লুকানোর সময় চোখ বন্ধ করে থাকে, মনে করে কেউ দেখছে না। তেমনি কিছু নেতা রাতের আঁধারে অপকর্ম করেও মনে করে কেউ জানে না। কিন্তু এলাকার সবাই জানে। ফ্যাক্ট: ফুটকার সাক্ষী কিন্তু ফুটকায় দেয়। অতএব, আপনারা এলাকায় যা করতেছেন একটু ভাইবা-চিন্তা কইরেন।”
এ পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আহতরা হলেন— দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত উল্লাহ, তার বাবা মতিউর রহমান এবং রুহুল মিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যা ও রাতে পৃথক দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হন রহমত উল্লাহ, রুহুল মিয়া ও মতিউর রহমান।
আহত রহমত উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, “দুপুরে আমি মাদকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিই। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার দিকে আমাকে মারধর করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে ফরহাদ, দুলাল, শাহ আলম মোল্লা, জাহাঙ্গীর ও আলমগীরসহ কয়েকজন আমার ওপর এবং আমার বাবা ও বড় ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা আমাদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করে।”
গুরুতর আহত অবস্থায় রহমত উল্লাহ ও তার বাবা মতিউর রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা-র ওসি মো. ইয়াছিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন— কৃষকদল নেতা ফরহাদ মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া ও আলমগীর।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মো. ইয়াছিন বলেন, “বাখরনগর গ্রামের ঘটনায় একজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা এবং গ্রেপ্তারদের জেলাহাজতে পাঠানো হয়েছে।”