বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা -কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।
মো রোমন হায়দার। , বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
কোন মৌসুমি পাখিকে বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত বাঞ্ছারামপুর উপজেলাকে কোনো ভাবেই ছেড়ে দয়া হবে না।এখানে ধানের শীষের প্রার্থীই নির্বাচন করবেন।তিনি যে-ই হোক।
নাম উল্লেখ না করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, যিনি বাঞ্ছারামপুরের ডান বাম চিনেন না,আগে কখনো বাঞ্ছারামপুরে চেহারা দেখতে আসেন নি,জনগণের খবর নিতে আসেন নি,তিনি এখন বিএনপিকে মাইনাস করে এমপি হওয়ার জন্য লবিং করছেন।
আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে
বাঞ্ছারামপুর বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর মনোনয়নের জন্য এক মতবিনিময় সভা করেছে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে গত ২ সপ্তাহ যাবত উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে একই দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তারা।
তারা বলেছেন, ‘ডান বাম বুঝি না, এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিতে হবে।’
অন্য কোন প্রার্থীকে তারা মেনে নিবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি একেএম মুছা সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। তিনি এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। যুবদলের আহবায়ক হারুনুর রশীদ আকাশের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য ছালে মুছা, জেলা বিএনপির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মহসিন, সদস্য গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আবু কালাম, মাহবুব হাসান, ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন, লিটন সরকার, আশিকুর রহমান অন্তু, বিউটি আক্তার, রুমা বেগম।
মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বক্তা বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের জুলুম-নির্যাতনের আমলে বিএনপি নেতাকর্মী সবাই জেল জুলুম সহ্য করে দল করেছি। ডজন ডজন মামলা নিয়ে ঘুরেছি। জেলে, ধান ক্ষেতে ঘুমিয়েছি।পরিবার ও
বাড়ি ছাড়া থেকেছি মাসের পর মাস। এখন অন্য কেউ এসে বলবে- এই আসন আমার, সেটি হবে না।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘দলের লিফলেট বিতরণ করতে গিয়ে ছাত্রদলের সহসভাপতি নয়ন পুলিশের গুলিতে মারা গেছে। তখন কেউ দেখতে যায়নি।’
অন্যদিকে বিএনপির অন্যতম শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সব ইউনিয়নে জয়ের আশায় চালাচ্ছে জোর তৎপরতা। জামায়াত ও ইসলামি আন্দোলনের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপিতে উপজেলার এই আসনে রয়েছেন অন্তত ডজন খানেকেরও বেশি সম্ভাব্য প্রার্থী। যারা দলীয় কর্মসূচি ও সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছিলেন, তারা প্রায় সকলেই ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য একাট্টা হচ্ছেন।
বিএনপির ঘাঁটি খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর আসন আবারো ফিরে পেতে চায় দলটি। ১৯৮৮ সালে এটিএম ওয়ালী আশরাফ, ১৯৯৪ সালে শাহজাহান হাওলাদার সুজন ও ২০০১ সালে এমএ খালেক এ আসনে বিএনপি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি ফের বিএনপি থেকে যেকোনো প্রার্থীকে মনোনয়নের দাবি করছে। কোনো জোটের শরীক দল থেকে মনোনয়ন দিলে দলের ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।