বাঞ্ছারামপুর উজানচর রাধানগরের ত্যাগ-সংগ্রামের তিন দশক: বিএনপির রাজনীতিতে আল আমিন সরকারের পথচলা
নিজস্ব প্রতিনিধি মো রোমন হায়দার (বাঞ্ছারামপুর)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন সরকার দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ১৯৯১ সালে ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এই কর্মী দাবি করেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি ও আত্মগোপনের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

আল আমিন সরকার জানান, ২০০০ সালে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গেলেও দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। দেশে ছুটিতে এলে বিভিন্ন মিছিল, সভা-সমাবেশে অংশ নিতেন এবং প্রবাসে থেকেও দলীয় প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।

তিনি বলেন, দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হন। একাধিক মামলায় জড়ানো হয় এবং কারাবরণও করতে হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে একসময় পরিবার তাকে পুনরায় বিদেশে পাঠালেও ২০১৬ সালে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।

আল আমিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট সফর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ার পথে আশুগঞ্জ এলাকায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালত থেকে খালাস পান।

তিনি আরও জানান, বাঞ্ছারামপুরের ফেরিঘাট এলাকায় দলীয়পোস্টার লাগানো ও প্রচারণার সময় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশ আটক করে এবং তাদের কারাভোগ করতে হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গায়েবি মামলায় আসামি করা হলে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। পুলিশের অভিযানের কারণে অনেক রাত বাড়ির বাইরে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কাটাতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর স্থানীয় একটি কম্পিউটার দোকানে কাজ করার সময় সিভিল পোশাকে পুলিশ তাকে খুঁজতে আসে বলেও অভিযোগ করেন আল আমিন সরকার। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে বিএনপির সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় তার কাছাকাছি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে জানান তিনি।

আল আমিন সরকার বলেন, “রাজনীতিতে আমি কখনো পদ-পদবীর জন্য কাজ করিনি। দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলাম, এখনও আছি। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এই বিশ্বাস নিয়েই পথ চলছি।”
তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে দুঃসময়ের কর্মীদের অবদান যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। দীর্ঘ রাজনৈতিক।