চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জেরে ময়মনসিংহে রাব্বি হত্যা, প্রধান আসামি আবদুল খালেক গ্রেপ্তার।
প্রধান আসামি আবদুল খালেক বাবার হত্যার বিচার নিজে করার কারন কি?রাব্বিকে হত্যা করে অপরাধ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার বিষয় টি আপনার দৃষ্টিতে কেমন অনুভব সৃষ্টি হয়।
(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে ময়মনসিংহ নগরে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাব। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিস হয়েছিল। তবে ওই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে রাব্বির ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলা থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।র্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক দাবি করেছেন, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন তার বাবা ফজলুল হককে মারধর করেছিলেন এবং ওই ঘটনায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল।এ ছাড়া রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন খালেক। এসব ক্ষোভ থেকেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তিনি র্যাবকে জানিয়েছেন। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র্যাব। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো পক্ষের বিরোধ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িঘরে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র্যাব একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।