চট্রগ্রামের সাতকানিয়ার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বাঞ্ছারামপুরের স্বেচ্ছাসেবকরা

ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, পুনর্বাসন কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় মানবিক উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার পরিবার। সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের মতো এবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করাই তাদের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, অভিযানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ যাতায়াত ও খাবারের ব্যয় ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন। ফলে সংগৃহীত অনুদানের শতভাগ অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পুনর্বাসন সামগ্রী ক্রয় এবং বিতরণে ব্যয় করা হচ্ছে।
এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি সাতকানিয়া উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান ছরুয়ার কামালের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করে আয়োজকরা জানান, তাঁর সমন্বয় ও সহযোগিতায় কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
মানবিক এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছে ভিলেজ ফাউন্ডেশন, খাদেমুল ইসলাম মানবকল্যাণ সংগঠন এবং মানবতা রক্তদান সংঘ, বাঞ্ছারামপুর। এছাড়া বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক, শুভাকাঙ্ক্ষী, উপদেষ্টামণ্ডলী এবং প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধারাও নানাভাবে সহায়তা প্রদান করছেন।
স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, “দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সামান্য অবদান রাখার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।
মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের এই মানবিক প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং বন্যাকবলিত মানুষকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার তাওফিক দান করেন।”
স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময় বাঞ্ছারামপুরের স্বেচ্ছাসেবকদের এমন উদ্যোগ মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।