কোটি টাকার সম্পদের মালিক, তবু রাস্তার খুপরিতে মানবেতর জীবন—বাঞ্ছারামপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ঘিরে মানবিক সংকট

স্টাফ রিপোর্টার মো রোমন হায়দার | বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর গ্রামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মানবেতর জীবনযাপন ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েও আব্দুল মতিন (নাম প্রকাশিত) দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত খুপরি ঘরে অমানবিক পরিবেশে বসবাস করছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মতিন একসময় শিক্ষিত, ভদ্র ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। তবে মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর তার জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে পরিবারের এক প্রভাবশালী সদস্য তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকারও বেশি।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, সম্পদের প্রকৃত মালিক হয়েও আব্দুল মতিন আজ চরম অবহেলা ও মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যে খুপরি ঘরে তিনি বসবাস করেন, সেটি মানুষের থাকার উপযোগী নয়। স্থানীয়দের দেওয়া খাবারেই তার দিন চলে। কেউ খাবার না দিলে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হয় তাকে।
এদিকে, উজানচর গ্রামের সচেতন মানুষ ও তরুণরা মানবিক উদ্যোগে তার জন্য একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত গোসল করানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া তার জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
মানবাধিকার সচেতন ব্যক্তিদের মতে, কোনো মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা এবং তার সম্পদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়। তারা বলেন, একজন অসহায় নাগরিকের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সচেতন মহল অবিলম্বে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, আব্দুল মতিনকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তার সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় আইন অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তার নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে হবে।