
ইমারজেন্সি সিজার’ নয়, সরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব—আস্থা ফিরাচ্ছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নিজস্ব প্রতিনিধি আশিকুর রহমান (বাবু) বাঞ্ছারামপুর:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ‘ইমারজেন্সি সিজার’ করার পরামর্শ পাওয়া এক গর্ভবতী নারীর সফল স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সম্পন্ন হয়েছে,সাংবাদিক আতিকুর রহমান বাবুর এর সহযোগিতায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। চিকিৎসকদের সঠিক মূল্যায়ন, দায়িত্বশীল তদারকি এবং মিডওয়াইফারি টিমের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ রয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার এক গর্ভবতী নারীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান। এতে রোগীর স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং সিজারের প্রস্তুতিও শুরু হয়। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তারা পরিচিত এক ব্যক্তির সহায়তা চান।
পরে বিষয়টি জানানো হলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রঞ্জন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি রোগীকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর রোগীর পূর্বের সব চিকিৎসা নথি ও পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালনরত সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রীতি কনা দাস রোগীর রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ধৈর্য ধরলে স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব।
চিকিৎসকের আশ্বাসে রোগীর স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। ভর্তি হওয়ার পর থেকে ডা. প্রীতি কনা দাস নিয়মিত রোগীর খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মনও রোগীকে পরিদর্শন করে চিকিৎসা কার্যক্রমের খোঁজ নেন।
দীর্ঘ সময়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা, দক্ষতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হাসপাতালের মিডওয়াইফারি টিম সফলভাবে স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। এতে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ রয়েছেন।
রোগীর স্বজনরা সহকারী অধ্যাপক ডা. প্রীতি কনা দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন এবং দায়িত্বশীল মিডওয়াইফারি নার্সদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা, ধৈর্য এবং সঠিক সিদ্ধান্তের কারণেই অপ্রয়োজনীয় সিজার ছাড়াই নিরাপদ প্রসব সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সব ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে রোগীর অবস্থা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সময় দিলে অনেক প্রসবই স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা জানান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সিজারিয়ান অপারেশনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। তাই গর্ভবতী নারীদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে আগে সরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজার, অতিরিক্ত ব্যয় ও মানসিক চাপ থেকে একটি পরিবারকে রক্ষা করতে পারে।