আলোর ক্ষুদ্র পরিবর্তনেই মিলবে দীর্ঘস্থায়ী রোগের সংকেত
ডেইলি নিউজ বাঞ্ছারামপুর নিজস্ব প্রতিনিধি আশিকুর রহমান।
ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবারভিত্তিক সেন্সরের মাধ্যমে মানবদেহে রোগ শনাক্তকরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিতে আলোর খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করা সম্ভব, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগের আগাম সংকেত দিতে সক্ষম।
গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবারে থাকে সূক্ষ্ম বায়ু ছিদ্রযুক্ত মাইক্রোস্ট্রাকচার। এই কাঠামো আলোর সঙ্গে জৈবিক উপাদানের শক্তিশালী মিথস্ক্রিয়া ঘটায়। ফলে রক্ত বা কোষের সামান্যতম পরিবর্তনও সেন্সর দ্বারা সনাক্ত করা যায়।
সেন্সরের সংবেদনশীলতা আরও বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে Surface Plasmon Resonance (SPR) প্রযুক্তি। এতে ফাইবারের ওপর অতিপাতলা সোনার স্তর সংযুক্ত করা হয়। যখন রক্ত বা জৈবিক নমুনা সেন্সরের সংস্পর্শে আসে, আলোর প্রতিফলন ও আচরণে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দেয়। এই পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও লিভারের রোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের আগাম পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
গবেষকরা মনে করেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত, সহজ ও কম খরচে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এটি হাসপাতালের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায়ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ তৈরি করবে।
গবেষক এস. এম. রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবার প্রযুক্তি আলোর মাধ্যমে জৈবিক নমুনার অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী রোগের আগেভাগে শনাক্তে বড় ভূমিকা রাখবে।”
মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম যোগ করেন, “সঠিক নকশায় সেন্সরের সংবেদনশীলতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। এটি বায়োমেডিক্যাল ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
মোহাম্মদ সবুজ মিয়া বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা, যা সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য। সফল হলে হাসপাতাল বা ল্যাবের বাইরেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্ভব হবে।”
গবেষকদের আশা, এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে রোগ নির্ণয়ের প্রচলিত ধারা বদলে দিতে সক্ষম হবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারবে।