আড়াই লাখের বিপরীতে ৩০ লক্ষ টাকার নোটিশ! হোমনায় ব্লাংক চেক ও সুদের কারবারে হয়রানির অভিযোগ।

মো রোমন হায়দার (বাঞ্ছারামপুর) নিজস্ব প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগের আমল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত চক্র সক্রিয়; ভুক্তভোগী বাবুলের আকুতিকুমিল্লার হোমনা এলাকায় মিথ্যা ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আড়াই লক্ষ টাকার আসল পাওনার বিপরীতে ৩০ লক্ষ টাকা পাওনা দেখিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে এক ভুক্তভোগীকে চরম হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোমনা উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মোঃ স্বপন খান নামের এক ব্যক্তি এই বিপুল অঙ্কের টাকার ভুয়া পাওনা দাবি করে সুদের কারবার ও ব্লাংক চেক জালিয়াতির মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার জজ কোর্টের আইনজীবী মোঃ আলমাছ উদ্দিনের মাধ্যমে বাঞ্ছারামপুর থানার কালিকাপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ বাবুলকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে দাবি করা হয়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনের কথা বলে বাবুল স্বপন খানের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা হাওলাত নিয়েছিলেন এবং তা পরিশোধের জন্য ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বাঞ্ছারামপুর শাখার ৩০ লক্ষ টাকার একটি চেক (চেক নং- MST 8747357) প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক হোমনা শাখা থেকে প্রত্যাখ্যাত (ডিশঅনার) হয়।

ভুক্তভোগী বাবুল অভিযোগ করে বলেন, "আমার কাছে স্বপন খান প্রকৃত অর্থে মাত্র আড়াই লক্ষ টাকা পায়। কিন্তু সে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং আমাকে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার এই বিশাল অঙ্কের মিথ্যা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। শুধু আমি একাই নই, হোমনা এলাকার বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে সে দীর্ঘদিন ধরে ব্লাংক চেক ও সুদের কারবারের ফাঁদে ফেলে নানান রকম হয়রানি করে আসছে।"
ভুক্তভোগী আরও জানান, অভিযুক্ত স্বপন খান বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল জুড়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষের ওপর এমন জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন। বর্তমানেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি একটি নতুন অসাধু চক্রের সাথে যুগসাজশ করে এলাকায় একই কায়দায় ব্লাংক চেক ও সুদের কারবারের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করা অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় এমন বেশ কিছু চক্র সক্রিয় রয়েছে যারা নিরীহ মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে সামান্য টাকা ধার দিয়ে কিংবা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের কথা বলে কৌশলে স্বাক্ষরযুক্ত ব্লাংক চেক হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সেই চেকে মোটা অঙ্কের টাকা বসিয়ে কোর্টের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে কিংবা মামলা ঠুকে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বা জমি-জমা লিখে নিতে বাধ্য করে।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী বাবুল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এই মিথ্যা নোটিশ ও জালিয়াতি চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।